প্রকল্পের ব্যানার
বিসিএস প্রশাসন

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

১৯৯৫ সাল থেকে কল্যাণমূলক কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিসিএস কর্মকর্তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য নিবেদিত সেবার মাধ্যমে আমাদের সম্প্রদায়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

৪
হোমপেজ প্রকল্প
৮
মোট প্রকল্প
--
সমাপ্তি

আমাদের সম্পর্কে

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং সদস্যদের কল্যাণে পরিচালিত একটি স্বনামধন্য সমবায় প্রতিষ্ঠান। পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সম্মিলিত উন্নয়নের মূলনীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতি সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০২ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ দ্বারা পরিচালিত। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো টেকসই ও সুপরিকল্পিত সমষ্টিগত উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন, প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন গঠন এবং সদস্যদের সামগ্রিক কল্যাণ ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আমাদের লক্ষ্য

মূলধন গঠন ও আর্থিক স্বনির্ভরতা: সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, সীমিত ব্যক্তিগত সম্পদকে প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনে রূপান্তর করা এবং ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জনের লক্ষ্যে এর সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: সমবায়ের নীতি, মূল্যবোধ এবং আধুনিক উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা কৌশল সম্পর্কে সদস্যদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা, যাতে সুসংগঠিত ও স্বনির্ভর জীবনযাপন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।আর্থ-সামাজিক প্রকল্প: সদস্যদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং টেকসই বিনিয়োগ আয় সৃষ্টির লক্ষ্যে আবাসন প্রকল্প, পরিবহন সেবা, কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক, শিল্প ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করা।পারস্পরিক সহযোগিতা ও জাতীয় অবদান: আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং জনস্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিবেশের টেকসই সংরক্ষণসহ জাতীয় কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।নৈতিক জীবনযাপন: প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও নৈতিক নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সদস্যদের সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা।

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমৃদ্ধ, সুপরিকল্পিত জীবনযাপন ব্যবস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সমবায় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
President A. B. M. Abdus Sattar

সভাপতির বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

উপস্থিত সম্মানিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং আমার প্রিয় সহকর্মী ও সমিতির সদস্যবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ। আমি আরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী বীর শহীদদের এবং আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের নতুন এক বাংলাদেশের দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রিয় সুধীবৃন্দ,

২০০৭ সালে আমাদের এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে। বর্তমানে আমাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪,০০০ জন। সমবায় আইন ও বিধিমালার আলোকে আমরা সমিতির কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

সুপ্রিয় সদস্যবৃন্দ,

সমিতির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রকল্পসমূহের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের হাতে বর্তমানে ৮টি প্রকল্প রয়েছে, যার প্রতিটিই সদস্যদের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। আমাদের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

আমাদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) আবাসন প্রকল্পটি এখন একটি সুপরিকল্পিত উপশহরের রূপান্তরের পথে। ৩১৪.৪৭ বিঘা জমির এ প্রকল্পে বর্তমানে ২৩৫.১৫ বিঘা জমি সমিতির নামে নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৭.২৯৩৫ বিঘা বা ২২.২০৬৮৫৫ একর জমি খুব শীঘ্রই বিনিময়/ক্রয় কাজ শেষ হবে। প্রকল্পে একটি মডেল মসজিদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের সকল স্থানে বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। ১৫৪ টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কাজ ডেসকো ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে প্রকল্পের পূর্ব সীমানায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবরে আমরা একটি দৃষ্টিনন্দন 'স্মৃতি প্রাচীর' নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি — যার নকশা প্রণয়নের কাজ এলজিইডি সম্পন্ন করেছে।

সমিতির সদস্যদের অনুকূলে এ পর্যন্ত ১৬৩টি প্লট রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, এবং আরও ২২টি প্লট নিষ্কন্টক করা হয়েছে যার মালিকগণ নির্ধারিত অর্থের পে-অর্ডার এবং কাগজপত্র দাখিল করলে উক্ত প্লটসমূহ সংশ্লিষ্ট মালিকগণের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে। আমাদের কার্যকর তদারকির ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এস, আর, ও নং-১৬১-আইন/আয়কর-৩৬/২০২৪ মূলে উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৪ তারিখ: ২৯.০৫.২০২৪ এর অধিকতর সংশোধনের জন্য বিগত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর স্মারক নম্বর-বিপ্রকবসস/গ্রী.ভ্যা.১.(খি)আ.প্র./জ.রে.স.ন./০৪/২০২৫-৫৭ মূলে আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত এস.আর.ও অধিকতর সংশোধনপূর্বক এস.আর.ও নং-১৫৭-আইন/আয়কর-১২/২০২৫, তারিখ: ২৬.০৫.২০২৫ এ জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে "নিবন্ধিত কোন সমবায় সমিতি যদি নিজ নামে নিবন্ধিত কোন ভূমি উক্ত সমিতির সদস্যগণের নিকট হস্তান্তর করে তবে উক্ত কার্যক্রম ডেভেলপার বা এস্টেট ডেভেলপারের কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে না" মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ফলে নিবন্ধিত সমবায় সমিতি হিসেবে সদস্যদের নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সদস্যদের ওপর থেকে ৫% অগ্রিম আয়কর (AIT) এবং ২% ভ্যাটের বিশাল আর্থিক বোঝা অপসারন করা সম্ভব হয়েছে।

আপনারা অবগত আছেন যে, সমিতির মগবাজার প্রকল্পটি রমনা থানাধীন বড় মগবাজার মৌজায় অবস্থিত। একটি ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক 'সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট' তৈরির লক্ষ্যে বড় মগবাজার মৌজায় (৯৭/এ) ০.২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। মগবাজার প্রকল্পের মূল্যবান জমিটি একটি কুচক্রী মহল দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। বর্তমান কমিটির সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে এবং তেজগাঁও ভূমি অফিস স্থাপনের মাধ্যমে বর্তমানে জমিটি সমিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে সুরক্ষিত রয়েছে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আমরা শক্তিশালী লিগ্যাল প্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত শুনানি পরিচালনা করে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ নিরঙ্কুশ মালিকানা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।

সমিতির অন্যতম আরেকটি প্রকল্প হলো উত্তরা আইসিসি (উত্তরা ট্রেড সেন্টার) প্রকল্প। উত্তরা ৩য় পর্ব এলাকায় বরাদ্দকৃত ১.২৫ একর জমিটিকে রাজউক থেকে বাণিজ্যিক ও বহুবিধ ব্যবহারের অনুমতি লাভ করা আমাদের অন্যতম একটি বড় সাফল্য। আমরা ইতোমধ্যে বহুবিধ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী ও শেয়ার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার জন্য ২টি জাতীয় দৈনিকে RFP আহ্বান করা হয়েছিল। উত্তরা ট্রেড সেন্টার (UICC) প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভাড়ার মাধ্যমে সমিতির তহবিলে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব হবে।

বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যদের বিনোদন, অবকাশ যাপন এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত দেশের প্রথম বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট জোন 'সাবরাং'-এ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অত্যন্ত মনোরাম নৈসর্গিক পরিবেশে সমিতির নিজস্ব মালিকানাধীন ১০.০০ (দশ) একর জমি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) হতে দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি 'অ্যাডমিন রিসোর্ট' ও ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমির মূল্য ও আনুষঙ্গিক ফি বাবদ সদস্যদের শেয়ার থেকে সংগৃহীত ১৪.৮১ কোটি টাকা ইতোমধ্যে BEZA-কে প্রদান করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত সমিতির মোট ৫৩৭ জন সম্মানিত সদস্য এ প্রকল্পের শেয়ার ক্রয় করেছেন। নতুন কর্মকর্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শেয়ার ক্রয়ের সময়সীমা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সমিতির আয়ের একটি বিশাল উৎস হয়ে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর যৌথ অংশীদারিত্বে কক্সবাজার বিনিয়োগ প্রকল্প শিরোনামে পরিচালিত এই প্রকল্পে সমিতির পক্ষ হতে ৩.২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। ইতোমধ্যে বিনিয়োগের ১ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট আসল ২.২৫ কোটি টাকা ও MoU এর শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের লভ্যাংশের ৪০% টাকা আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যা আমাদের তহবিলের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে আমরা উত্তরা ৩য় পর্বে 'জুলাই বিপ্লব স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ' স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় বরং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে কাজ করবে। রাজউক বরাবর প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ২০ লক্ষ টাকা জামানত প্রদান করেছি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রাথমিক ধাপসমূহ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে একটি বিশ্বমানের আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে, যেখানে 'জুলাই স্মৃতি দেয়াল' ও গ্রাফিতির মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চির জাগরুক করে রাখা হবে।

এছাড়া সদস্যদের ও তাঁদের পরিবারের জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমরা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে 'স্পর্শ প্লাস' নামক একটি আধুনিক মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজউক বরাবর নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি আমরা শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় জামানতের অর্থ (পে-অর্ডার) ইতোমধ্যে প্রদান করেছি। রাজউক হতে জমি হস্তান্তরের পরপরই এখানে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল তথা ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পটি আমাদের সদস্যদের আধুনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

একই সাথে নবীন কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধাজনক অন্য কোন স্থানে গ্রীন ভ্যালি আবাসন প্রকল্প-২ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পুরাতন পল্টন লাইন মৌজায় প্রতীকী মূল্যে খাস জমি বন্দোবস্তের সালামির টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আমরা গ্রহণ করেছি।

প্রিয় সদস্যবৃন্দ,

সমিতির সম্পদ রক্ষা এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিগত সময়ের অর্থ আত্মসাৎ ও সমিতির বিয়াম ভবনের অফিসে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এ অগ্নিসংযোগের ঘটনার হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ ট্রাস্ট'-গঠন করা হলে সমবায় সমিতির বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যাবে। ট্রাস্টে সরকার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা হতে সরাসরি অনুদান সংগ্রহের আইনি ক্ষমতা পাওয়া যায়। ট্রাস্টের আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে যার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারবর্গের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

প্রিয় সুধী,

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর আওতাধীন প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত অগ্রগতি সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনে সবিস্তারে উল্লেখ করা হচ্ছে। সকল প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন আপনাদের সামনে উপস্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করা। আপনাদের নির্দেশনার আলোকেই সমিতির পরবর্তী কার্যক্রমের রূপরেখা ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সম্মানিত সদস্যগণ একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে আমাদের সমিতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং সমিতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,

আপনারা অবগত আছেন যে, বিগত দিনে সমিতিতে কিছু অনভিপ্রেত আর্থিক অনিয়ম ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সমিতির কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে দালিলিক প্রমাণ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানাচ্ছি যে, বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর হতে গ্রেপ্তার হওয়ার দিন পর্যন্ত অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী সমিতির প্রায় ৬,৯৫,৪৪,৪১৮.৬৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে ২টি মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে ১টি আবেদন করা হয়েছে। সমিতির তহবিলের প্রতিটি পয়সা উদ্ধারে আমরা দুদকের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

প্রিয় সুধী,

আজকের এই বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহিত করায় আমি প্রধান অতিথি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের উপস্থিতি আমাদের দায়িত্ব পালনে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছে। একই সাথে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই অতিথিবৃন্দ এবং বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল উপ-কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সমিতিতে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকে। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতার ফলেই আজকের এই আয়োজন সফল হয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা ও জেলা প্রশাসন, ঢাকাকে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

পরিশেষে, বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে আজকের সভায় সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে এবং বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ কে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার জন্য সবিনয় আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের সমিতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে, এই প্রত্যাশা নিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।

আল্লাহ হাফেজ।

ধন্যবাদান্তে

এ বি এম আব্দুস সাত্তার

সভাপতি

বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড

জনাব এ বি এম আব্দুস সাত্তার

সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সাম্প্রতিক ঘোষণা

গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রকল্প-১
নির্বাচিত প্রকল্প

গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রকল্প-১

আমাদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ উন্নয়ন

গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রজেক্ট-১ হলো সমিতির সবচেয়ে বড় চলমান আবাসন প্রকল্প। প্রকল্পটি প্রায় ৩১৪.৪৭৮৫৬ বিঘা জমির ওপর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমিতি প্রকল্পের নামে ২৪৯.৯৯৪৬ বিঘা জমি ক্রয় বা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২৩৫.১৫৪২ বিঘা জমি অনুমোদিত লে-আউটের অন্তর্ভুক্ত এবং তা সমিতির নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—জমি নিয়মিতকরণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, মসজিদ নির্মাণ, স্কুল স্থাপনার ব্যবস্থা, লেক পরিকল্পনা এবং সীমানা/নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জমি ক্রয়, বিনিময় ও আইনি নিষ্পত্তি, প্লট নিবন্ধন এবং সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ চলমান।

অবস্থান
ঢাকার ৩০০ ফিট রোড সংলগ্ন, খিলক্ষেত থানা এলাকার অধীনে
অবস্থা
সক্রিয় উন্নয়ন ও ভূমি নিয়মিতকরণ চলমান
সমাপ্তি
--
শ্রেণি
আবাসন
প্রকল্পের বিস্তারিত জানুন
গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রকল্প-১

প্রকল্পের গ্যালারি

আমাদের প্রকল্প

সব প্রকল্প দেখুন
সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রকল্প
পর্যটন
চলমান

সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রকল্প

সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন প্রকল্প কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনে ১০.০০ একর জমির ওপর একটি পর্যটন ও বিনিয়োগভিত্তিক প্রকল্প। সদস্যদের শেয়ার তহবিল থেকে সমিতি বিইজেডএ (BEZA)-কে ১৪.৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং এ পর্যন্ত ৫৩৭ জন সদস্য শেয়ার ক্রয় করেছেন। সমুদ্রসংলগ্ন মনোরম পর্যটন পরিবেশে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাডমিন রিসোর্ট ও পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ শেয়ার ক্রয়ের সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও শেয়ার সংগ্রহ চলমান
মগবাজার প্রকল্প
বাণিজ্যিক
চলমান

মগবাজার প্রকল্প

ঢাকা শহরের একটি প্রকল্প, যেখানে চলমান হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের মামলাগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সাইটের দখল ও নিরাপত্তা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ স্থগিত
উত্তরা আইসিসি প্রকল্প
বাণিজ্যিক
চলমান

উত্তরা আইসিসি প্রকল্প

উত্তরা আইসিসি (উত্তরা ট্রেড সেন্টার) প্রকল্প হলো রাজউক-বরাদ্দকৃত একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট, যা উত্তরা ৩য় আবাসিক এলাকার সেক্টর ১৭/এইচ-১, রোড ৩, প্লট ৮-এ অবস্থিত। প্লটটির আয়তন ১.২৫ একর। রাজউক ০৩.০১.২০২৪ তারিখে এই প্রকল্পের জন্য বহুমুখী ব্যবহার (মাল্টিপারপাস ইউজ) অনুমোদন প্রদান করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে অনুমোদনের শর্তসমূহ শিথিলকরণ, কারিগরি ও আইনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং RFP (Request for Proposal) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী/শেয়ার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা।

RFP ও নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি চলমান
গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রকল্প-১
আবাসন
চলমান

গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রকল্প-১

গ্রীন ভ্যালি (খিলক্ষেত) হাউজিং প্রজেক্ট-১ হলো সমিতির সবচেয়ে বড় চলমান আবাসন প্রকল্প। প্রকল্পটি প্রায় ৩১৪.৪৭৮৫৬ বিঘা জমির ওপর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমিতি প্রকল্পের নামে ২৪৯.৯৯৪৬ বিঘা জমি ক্রয় বা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২৩৫.১৫৪২ বিঘা জমি অনুমোদিত লে-আউটের অন্তর্ভুক্ত এবং তা সমিতির নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—জমি নিয়মিতকরণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, মসজিদ নির্মাণ, স্কুল স্থাপনার ব্যবস্থা, লেক পরিকল্পনা এবং সীমানা/নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সক্রিয় উন্নয়ন ও ভূমি নিয়মিতকরণ চলমান